করোনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে প্রযুক্তি সহায়তা দেবে চীনা কোম্পানি

দেশে করোনাভাইরাস তথা ‘কোভিড-১৯’ মোকাবিলায় হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের কাছ থেকে ভিডিও কনফারেন্স সিস্টেম এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) সমাধান পাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের কাছে ভিডিও কনফারেন্স সিস্টেম এবং এআই সমাধান হস্তান্তর করেন হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সিইও ঝাং ঝেংজুন।
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আলী নূর, হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের এন্টারপ্রাইজ ভিপি পিটারসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেন, ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য আমি হুয়াওয়েকে ধন্যবাদ দিতে চাই। তাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সমাধানগুলো কঠিন এই সময়ে দক্ষভাবে সব কিছু সামাল দিতে চীনকে যথেষ্ট সহায়তা করেছে। বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে আমরাও এগুলো কাজে লাগাতে পারি।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের এই সম্পর্ক বন্ধুত্বের অনন্য এক উদাহরণ। বন্ধুত্বের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ‘কোভিড-১৯’ মোকাবিলায় হুয়াওয়ের মতো একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটা সত্যিই অসাধারণ।’
হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ঝাং ঝেংজুন বলেন, ‘হুয়াওয়ে বাংলাদেশ ‘কোভিড-১৯’ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে আছে। ভাইরাসটির আক্রমণ থেকে আমাদের কর্মীদেরকে রক্ষা করতে ইতিমধ্যেই কঠিন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে হুয়াওয়ে বাংলাদেশ। ‘কোভিড-১৯’ মোকাবিলায় হুয়াওয়ে সবসময়ই বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠবে।’
উন্নত এ সব প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের পাশাপাশি দূরবর্তী যোগাযোগ এবং ‘কোভিড-১৯’ শনাক্তে কার্যকর প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ্য, ভিডিও কনফারেন্স সিস্টেমটি ফোর-কে ভিডিও প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ও প্রেক্ষাপটে বুদ্ধিবৃত্তিক সমাধান দিতে সক্ষম। এর সাহায্যে করোনাভাইরাসের মতো মহামারির প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। দূর থেকে পর্যবেক্ষণ এবং কার্যকর সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে দূরবর্তী স্থান থেকে স্বাস্থ্য পরামর্শও দেয়া সম্ভব। এছাড়া এআইভিত্তিক স্ক্রিনিং সমাধান এবং পরিমাণগত বিশ্লেষণ পদ্ধতি ও সেবা হাসপাতালগুলোর রোগ নির্ণয়দাতাকে আরও উন্নত করতে সহায়তা করবে।

আরো পড়ুন: