কালিয়ায় মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে শিশুকে হত্যা

৮০

নড়াইল প্রতিনিধি নড়াইলের কালিয়ায় মাকে মারপিট করে তাড়িয়ে দিয়ে কোল থেকে শিশু মহিমাকে (২) কেড়ে নিয়ে পুকুরে ফেলে হত্যা করা হয়েছে।

রোববার সকালে উপজেলার হাঁড়িডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনার পর ওই শিশুর দাদা, দাদি, চাচা ও এক মসজিদ কমিটির সভাপতিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

রোববার রাতে কালিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহত মহিমার মা তাছলিমা বেগম।

পুলিশ জানায়, উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের হারুনার রশিদের মেয়ে তাছলিমার সঙ্গে হাঁড়িডাঙ্গা গ্রামের ছাদিয়ার থান্দারের ছেলে মাহামুদ থান্দারের প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে মাহামুদের পরিবারের লোকজন যৌতুকের দাবিতে নানাভাবে নির্যাতন করে আসছিল।

ইতিমধ্যে মাহামুদ ভাগ্যের চাকা ঘুরানোর জন্য সৌদি আরবে পাড়িজমান। স্বামী বিদেশে কর্মরত থাকার সুযোগে তার স্ত্রী তাছলিমাকে মাহামুদের ভাই শামীম থান্দারসহ পরিবারের লোকজন নানাভাবে নির্যাতন করে আসছিল।

রোববার সকাল ১০টার দিকে মাহামুদের বাবা ছাদিয়ার ও ভাই শামীমসহ পরিবারের লোকজন তাছলিমাকে মারপিট করে ২ বছরের শিশুকন্যা মহিমাকে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। ওই ঘটনায় তাছলিমা কালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ পেয়ে কালিয়া থানা পুলিশ ঘটনার তদন্তসহ মাহিমাকে উদ্ধার করতে শামীমদের বাড়িতে যায়। সেখানে মাহিমার খোঁজ জানতে চাইলে বাড়ির লোকজন তার সঠিক সন্ধান দিতে পারেনি। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে।

একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে পুলিশ মহিমাকে উদ্ধার করে। তাকে কালিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তাছলিমার অভিযোগ তাকে তাড়িয়ে দিয়ে তার শিশুকন্যাকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন পুকুরের পানিতে ফেলে হত্যা করেছে।

শিশু সন্তান হত্যার ঘটনায় তাছলিমা বেগম নিহতের দাদা ছাদিয়ার থান্দার, দাদি সামেলা বেগম, চাচা শামীম থান্দার ও কালিয়া সদর বাজার জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি পান্নু থান্দারসহ ৮ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।

পুলিশ মামলার আসামি ওই গ্রামের বোচা থান্দারের স্ত্রী রোজিনা বেগমকে (৩৭) গ্রেফতার করেছে।

কালিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মো.ইকরাম হোসেন বলেন, ‘মাহিমা হত্যা ও তার মা তাছলিমাকে মারপিট করে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় ৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। রোজিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরো পড়ুন: