খেলা বন্ধ : ক্রিকেটাররা কি করছেন, করবেন আর কি করতে পারবেন?

৭০

করোনা ভাইরাসের কারণে ঘরোয়া ক্রিকেটের একমাত্র টি-টোয়েন্টি আসর প্রিমিয়ার লিগ শুরু হয়ে এক রাউন্ড পরই বন্ধ হয়ে গেছে। এর বাইরে সব ধরনের ক্রিকেট আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

পুনরায় শুরুর দিন ক্ষণ বেঁধে দেয়া হয়নি এখনো। তবে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন প্রিমিয়ার লিগ বন্ধের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘আসলে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি উন্নত না হওয়া পর্যন্ত লিগ শুরুর কোন নির্দিষ্ট দিন বেঁধে দেয়া যাচ্ছে না। যাবেও না। তাই সবার আগে দরকার পরিস্থিতির উন্নতি।’

অবস্থার উন্নতি তথা করোনা আতঙ্ক কেটে গেলে আবার লিগ শুরুর প্রশ্ন। তবে বিসিবি বিগ বস জানিয়েছেন, এমনও হতে পারে যে প্রিমিয়ার লিগ শুরু করতে করতে ১৫ এপ্রিলও হয়ে যেতে পারে। তার মানে প্রায় এক মাস বা চার সপ্তাহ লিগ বন্ধ।

লিগ বন্ধের পাশাপাশি দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থার প্রধান আরও একটি বার্তা দিয়েছেন ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যে। তিনি সোজাসাপটা জানিয়ে দিয়েছেন, এখন আসলে খেলার সময় নয়। খুব দরকার না পড়লে ক্রিকেটাররা যেন বাড়ির বাইরে না যান, সে পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

প্রথমত, প্রিমিয়ার লিগসহ সব রকম ক্রিকেট স্থগিত। তারওপর বোর্ড প্রধানের পক্ষ থেকে ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ সতর্ক-সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে। এরকম অবস্থায় ক্রিকেটারদের করণীয় কি? তারা আসলে কি করবেন?

ধরা যাক, আগামী ৩১ মার্চ নয়, ১৫ এপ্রিলের আগে আর লিগ শুরু হলোই না, তাহলে ক্রিকেটাররা এই দীর্ঘ সময় কি করবেন? বাড়িতে শুয়ে বসে বা ঘরে আবদ্ধ থাকবেন? তাতে কি ফিটনেস লেভেল ঠিক থাকবে?

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আসলে ক্রিকেটাররা কি করছেন? তাদের কি করা উচিৎ, তারা কি করতে পারেন বা করবেন? এসব নিয়ে ভক্ত ও অনুরাগীদের রাজ্যের কৌতুহল।

ক্রিকেটার মুমিনুল হক, সৌম্য সরকার আর দুই সিনিয়র কোচ সারোয়ার ইমরান ও খালেদ মাহমুদ সুজন সে কৌতুহলী প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। আজ দুপুরে জাগো নিউজের সাথে খোলামেলা কথা বলেছেন মুুমিনুল, সৌম্য এবং কোচ ইমরান ও সুজন।

কোচ সারোয়ার ইমরান আর খালেদ মাহমুদ সুজন দুজনই মানছেন, যেহেতু করোনার কারণে লিগ বন্ধ। তাই সব দলের প্র্যাকটিসও বন্ধ। বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপটে নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফিটিনেস ট্রেনিং, ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ আর প্র্যাকটিস করা ছাড়া কোনই উপায় নেই। কোন টিমেরই প্র্যাকটিস হচ্ছে না। দলগত অনুশীলন করার সুযোগও নেই। সব বন্ধ।

করোনা ভাইরাস থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি দুই সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ সুজন আর ইমরান বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, যেহেতু টিম প্র্যাকটিস ও ক্রিকেট অনুশীলনের সুযোগ নেই। তাই ক্রিকেটারদের অন্তত নিজ নিজ ফিটনেস ঠিক রাখার কাজ করার দরকার আাছে।

আবাহনীর কোচ সুজন জানিয়েছেন, এর মধ্যেও কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফিটনেস ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি শেরে বাংলায় এসে ব্যাটিং প্র্যাকটিস করার চিন্তা ভাবনাও করছেন। সেই তালিকায় মুশফিকুর রহীম আছেন জানিয়ে সুজন বলেন, ‘মুশফিক ব্যক্তিগত উদ্যোগে শেরে বাংলায় একা ব্যাটিং প্র্যাকটিস করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। তার জন্য আলাদা নেটের ব্যবস্থা করতে মাঠ কর্মীদের বলাও হয়েছে।’

ওদিকে প্রাইম ব্যাংকের কোচ সারোয়ার ইমরানও একই কথা বলেছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে করোনা ভাইরাস থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সাবধানতা অবলম্বনের তাগিদ দিয়ে ইমরান বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে ফিটনেস ট্রেনিং বা ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করা ছাড়া ক্রিকেটারদের এখন করণীয়ও কিছু নেই।’

জানা গেছে, জাতীয় দলসহ অন্যান্য সব ক্রিকেটার এখন ফিটনেস লেভেল ধরে রাখতে অন্তত ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজই করে যাচ্ছেন এবং করার কথাও ভাবছেন।

এবারের লিগে গাজী গ্রুপের অন্যতম সিনিয়র ক্রিকেটার মুমিনুল হক বলেছেন, ‘ক্রিকেট আমাদের ধ্যান-জ্ঞান ও রুটি রুজি। কিন্তু জীবন তার চেয়ে অনেক বড়। বেঁচে থাকাই সবার আগে। বর্তমানে করোনা আতঙ্ক যেভাবে ছড়িয়েছে, তাতে নিজের ফিটনেস ও ক্রিকেটীয় প্রস্তুতির চেয়ে কিছু দিন সতর্ক ও সাবধানে থাকা উচিৎ।’

মুমিনুল যোগ করেন, ‘এখন যেহেতু সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধ, তাই ক্রিকেটীয় প্রস্তুতি মানে ব্যাটিং ও বোলিং নিয়মিত অনুশীলন করার প্রয়োজন সে অর্থে নেই। তার চেয়ে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করা যেতে পারে। যেটা বাসায় বসেই করা যায়। প্রত্যেকে নিজের বাসায় অবস্থান করেই ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ ও পুশআপ এবং অন্যান্য ছোটখাটো ব্যায়ামগুলো করতে পারে। তাতে অন্তত শারীরিক সক্ষমতাটা ঠিক রাখা সম্ভব।’

আর ক্রিকেটীয় অনুশীলন সম্পর্কে বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়কের কথা, ‘ইচ্ছে করলে বিসিবিতে গিয়ে জিম করা যায়। হোম অফ ক্রিকেটে অনুশীলন করারও সুযোগ আছে। তবে বর্তমান অবস্থায় আমি তা করতে চাই না। আমি চাইলে করতে পারবো। তবে এখন কিছুদিন না করলেও সমস্যা নেই। আর আজকাল ফিটনেস ফিরে পেতে এবং নিজের ম্যাচ খেলার মত অবস্থায় নিয়ে যেতে খুব বেশি সময় লাগে না। বিষয়টা তত জটিল নয়। কাজেই আমি পরিবেশ পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছি। সব ভাল হয়ে গেলে আবার মন দিয়ে অনুশীলনে নেমে পড়ব। এখন ঘরে বসে যতটুকু ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করা যায়, তাই করবো।’

তবে সৌম্য সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি খানিক ভিন্ন। সৌম্যরও বাসায় ফ্রি এক্সারসাইজ করার সুযোগ আছে। তবে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান খেলা বন্ধের ভেতরেও সময় করে শেরে বাংলায় যাচ্ছেন এবং অনেকটা নীরবে একা একা রানিং এবং জিমওয়ার্ক করছেন।

জাগো নিউজের সাথে আলাপে সৌম্য বলেন, ‘আমিও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। করোনা ভাইরাস নিয়ে ভয় এবং আতঙ্কের মধ্যে আছি। তবে এর ভেতরেও নিজেকে যতটা সম্ভব ফিট রাখতে হবে। মাঠের ক্রিকেটে ভাল করার জন্য অন্তত শারীরিকভাবে সক্ষম রাখার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ দীর্ঘ সময় ঘরে বসে থাকলে ফিটনেস লেভেল কমে যাবে।’

সৌম্য যোগ করেন, ‘তাই আমি সবার অজান্তে হয়ত খুব সকালে না হয় সন্ধ্যায় শেরে বাংলায় চলে যাই। রানিং করি। জিমেও যাই। তখন কেউ থাকে না। কারো সাথে শারীরিক স্পর্শের সুযোগ থাকছে না। আমি আমার নিজের কাজটুকু করে ফিরে আসছি। এছাড়া আমি ঘরে বসে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করি। পাশাপাশি রাবার দিয়ে যে বিশেষ ড্রিল করানো হয়, সেটাও নিয়ে এসেছি। এখন থেকে বাসায় করবো। সিড়ি বেঁয়ে ওঠা নামা এবং পুশআপও করে যাচ্ছি।’

মোদ্দা কথা, জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার মুমিনুল আর সৌম্যর সাথে কথা বলে জানা হলো, তারা করোনা নিয়ে চিন্তিত। উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। সতর্ক ও সাবধানও আছেন। তবে এর মধ্যেও ফিটনেস ধরে রাখতে যা যা করণীয়, তা করে যাচ্ছেন।

আরো পড়ুন: