ত্রাণ চুরি ঠেকাতে থানা-ইউনিয়নে সেনাবাহিনী মোতায়েনের আহ্বান

১৭৪

ময়নামতি ডেস্ক :
করোনাভাইরাসের এ সময়ে ত্রাণ চুরির ঠেকাতে জেলা, উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন সেনাবাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দেশে পত্রিকা ও টেলিভিশন খুললেই আমরা দেখি আওয়ামী লীগ নেতারা গম ও চাল চুরি করছে, তখন আমাদের কষ্ট লাগে। সারা পৃথিবীর সকল ধর্মের মানুষ যখন তার সৃষ্টিকর্তা কে ডাকছে আর তখন আমরা দেশে একই দেখতে পাচ্ছি, চাল গম ও টাকা চুরি।’

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও ড্যাবের উদ্যোগে রাজধানীতে ৮টি বেসরকারি মেডিকেল ও ২টি ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) প্রদান অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন তিনি। এম এইচ শমরিতা মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দুলু বলেন, ‘বর্তমানে দেশে এমন একটি ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, গতকালই দেখলাম রংপুরে ক্ষুধার্ত হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় মিছিল করেছে, চেয়ারম্যানদের ঘেরাও করছে, তাদের শুধু একটাই চাওয়া খাবার আর খাবার। আর এই চুরির সঙ্গে জড়িত রয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও এমপিরা। কারণ তারা কেউই জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়, তাই তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই। সে কারণেই আমি সরকারকে বলব, আপনারা যদি এই বদনাম থেকে বাঁচতে চান তবে এখনই জেলা, উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করে খাবার ডিস্ট্রিবিউশন করেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী রাস্তা নির্মাণ করছে, বড় বড় ব্রিজ নির্মাণ করছে, তাদের দিয়ে যদি ত্রাণ ও অনুদানের অর্থ বিতরণ করা যায় তবে সরকার বদনাম থেকে রেহাই পাবে এতে প্রকৃত জনগণের হাতে সহায়তা পৌঁছাবে, আর এটাই আমারা প্রত্যাশা করি।’

ডাক্তারদের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন আমরা তাদের শ্রদ্ধা করি। ঠিক একইভাবে এই ডাক্তারদেরও আমাদের শ্রদ্ধা করা উচিত। কারণ তারাও আজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সেবার জন্য এগিয়ে এসেছেন। তাই সরকারকেই তাদের জীবনের সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, পার্শ্ববর্তী দেশের সরকার তাদের ডাক্তারদের জন্য প্রচুর অর্থ বরাদ্দসহ নানান কর্মকাণ্ড গ্রহণ করেছে, ঠিক আমরাও চাই এ দেশের বড় বড় ফাইভ স্টার হোটেলগুলোতে ডাক্তারদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাদের আর্থিক অবস্থাটাও সরকারকে দেখতে হবে। একজন ডাক্তার যাতে নির্ভয়ে মরণব্যাধি করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে পারে পাশাপাশি তার পরিবারের নিরাপত্তা দিতে পারে।’

বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, ‘এই মহাদুর্যোগে ডাক্তারদের ভয়ভীতি হুমকি প্রদর্শন করে নয়, বিনয়ের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের মতো প্রাপ্য সম্মান দিয়েই কোটি মানুষের সেবায় তাদেরকে নিয়োজিত করতে হবে।’

এ সময় তিনি এই মহাদুর্যোগে ডাক্তারদের সেবায় এগিয়ে আসার জন্য জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি যারা বিত্তবান তাদেরকেও এই মহৎ কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ৮টি বেসরকারি মেডিকেল ও ২টি ডেন্টাল কলেজে পিপিই দিল জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব।

যেসব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিপিই প্রদান করা হয়েছে সেগুলো হলো- উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ, ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ, আপডেট ডেন্টাল কলেজ, এম এইচ শমরিতা মেডিকেল কলেজ, এম এইচ শমরিতা ডেন্টাল কলেজ, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ, শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ, কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ।

পিপিই বিতরণ অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদল।

পিপিই বিতরণে সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন- জেডআরএফের মনিটর ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, ড্যাবের যুগ্ম মহাসচিব ডা. পারভেজ রেজা কাকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. খালেকুজ্জামান দীপু ও বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ডা. এ এস এম রাকিবুল ইসলাম আকাশ।

আরো পড়ুন: