বরুড়ায় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের সেলাই মেশিন ও আয়রন বিতরনে অনিয়মঃটাকা আত্মসাত

১৩

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার বরুড়ায় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অসহায় জেলেদের মাঝে সেলাই মেশিন ও আয়রন বন্টনের বরাদ্দকৃত অর্থের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিটি সেলাই মেশিন ও আয়রনের অস্বাভাবিক মূল্য দেখিয়ে যোগসাজশে ওই টাকা আত্মসাতের বিষয়ে তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকার জেলে পরিবারের দুর্দিনের কথা ভেবে মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জেলার বরুড়ায় ২০টি জেলে পরিবারের মাঝে গত মাসে ২২ জানুয়ারি উপজেলা অডিটরিয়ামে প্রতি পরিবারকে ১টি করে সেলাই মেশিন ও ১টি আয়রন বিতরণ করে। এ প্রকল্পের আওতায় সিঙ্গার ব্র্যান্ডের ২০টি আয়রন ও ২০টি সেলাই মেশিন কিনতে বরুড়া মৎস্য অফিস মোট ব্যয় দেখায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

যার প্রতিটি সেলাই মেশিনের মূল্য ১০ হাজার টাকা এবং প্রতিটি আয়রনের মূল্য ৬ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০টি সেলাই মেশিন ও ২০টি আয়রন মোট ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ক্রয় করা হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ দেখিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা যোগসাজশে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সিঙ্গার বাংলাদেশ লি. এর কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলা শাখা ম্যানেজার মো. জামাল উদ্দিন মিয়াজী জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রতিটি সেলাই মেশিন ৫ হাজার ৮শ টাকা করে ২০টি মোট ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং প্রতিটি আয়রন ১ হাজার ২শ টাকা করে ২০টি মোট ২৪ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছে।

রশিদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী আবদুর রশিদ জানান, কমিটি যাচাই বাছাই করে আমাকে কাজ দিয়েছে। এক্ষেত্রে আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। তবে বরুড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মহিনউদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০টি সেলাই মেশিন ও ২০ আয়রন কিনতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বিল প্রদান করা হয়েছে। উপজেলার নোটিশ বোর্ডে কোটেশন আহবান করে একটি বিজ্ঞপ্তি সাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক মেসার্স রশিদ এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স তামান্না এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সামি এন্টারপ্রাইজ কোটেশন জমা দেন। পরবর্তীতে কোটেশনগুলো উপজেলার ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি যাচাই বাছাই করে সবচেয়ে কম মূল্য দেওয়া রশিদ এন্টারপ্রাইজকে দেওয়া হয়।

কোটেশনে অস্বাভাবিক মূল্যের বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, উপজেলা পশু-সম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা যুব ও প্রশিক্ষণ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কোটেশন যাচাই বাছাই করে মেসার্স রশিদ এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পেতে সুপারিশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার বরাবর পাঠানো হয়।

এখানে কোন রকম দুর্নীতি হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

আরো পড়ুন: